রেস্তোরাঁ থেকে বেরোতে গিয়ে আটকে গেলাম। হঠাৎ নেমে আসা বৃষ্টিতে জনা দশেক মানুষ একসাথে বন্দী। রাস্তার বাইক-স্কুটারওয়ালারাও ছুটে আসছেন আশ্রয় নিতে। সবার মুখে একটাই ভাব — বিরক্তি, বিরক্তি আর বিরক্তি।
ঠিক তখনই একটা স্কুটার থামল রেস্তোরাঁর সামনে। বাবার পেছনে বছর ছয়-সাতের একটা মেয়ে। সাদার উপর আকাশি ফুল-ফুল ফ্রক, পায়ে গোলাপি হাওয়াই চটি।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো তার গায়ে পড়তেই সে দু’হাত তুলে নাচতে শুরু করল। চেঁচিয়ে উঠল আনন্দে। বাবা বকছেন, কিন্তু মুখে লুকানো হাসি। আর মেয়েটা বাবার বকা পাত্তাই দিচ্ছে না।
যে বৃষ্টি আমাদের সবাইকে বিরক্ত করে তুলেছিল, সেই একই বৃষ্টি তার কাছে হয়ে উঠল খেলার সাথী। কারণ সে জানে জীবন উপভোগ করতে হয়, তার জীবনীশক্তি তখনও অটুট।
মেয়েটাকে দেখে আমারও ভীষণ ইচ্ছে করছিল ছোটবেলার মতো ভিজতে। কিন্তু আমি তো আর ছোট নই — সমাজের অনেক গণ্ডিতে বাঁধা পড়া এক মানুষ।
তবু মেয়েটার আনন্দ এতটাই টেনে নিল আমাকে যে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই হাঁটা শুরু করলাম গন্তব্যের দিকে। যাওয়ার আগে মনে মনে বললাম —
আনন্দ করে যাও বাচ্চা, মন ভরে বেঁচে নাও। তোমার জন্য অনেক আনন্দ কামনা করি। তোমার ছোটবেলা দীর্ঘজীবী হোক।
এটুকু আশীর্বাদ রইল — এক বেঁচে থাকা মৃত মানুষের তরফ থেকে।
